বিনোদন ডেস্ক
ঢাকাই চলচ্চিত্রের ‘মিষ্টি মেয়ে’ খ্যাত অভিনেত্রী কবরীর জন্মদিন আজ। তবে এবারে তার জন্মদিনকে ঘিরে থাকবে না কোনো উৎসব আনন্দ। তাকে ঘিরে সব দুঃখকেই মনে পড়বে। কারণ আজ তিনি আমাদের মধ্যে নেই। গত ১৭ এপ্রিল সবাইকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে যান এই তারকা।
বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাস তাকে ছাড়া অসম্পূর্ণ। এই শিল্পের ভিত শক্ত করেছেন কবরী। অসাধারণ অভিনয় নৈপুণ্যে সমৃদ্ধ এই নায়িকা আপামর জনসাধারণের কাছে ছিলেন জনপ্রিয়। এই নামটি উচ্চারনের পর আগে পিছে কিছু বলার প্রয়োজনও পড়েনা। চলচ্চিত্র সংস্কৃতিতে কিংবা রাজনৈতিক অঙ্গনে তার ইতিহাস এতটাই ব্যাপক যে তা লিখলে, কয়েক খন্ডের গ্রন্থ হয়ে যাবে। শুধু চলচ্চিত্রেই তার অবদান লেখা কোনো ক্ষুদ্র পরিসরে সম্ভব নয়। বলা যেতে পারে তিনি ছিলেন চলচ্চিত্রের এক কিংবদন্তি, ছিলেন এক মহা তারকা।
চট্টগ্রাম জেলার বোয়ালখালীতে মীনা পাল ওরফে কবরীর জন্ম হলেও, তার শৈশব জীবন ছিলো চট্টগ্রাম শহরেই। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি নৃত্যশিল্পী হিসেবেও খ্যাত হন। মাত্র ১৩ বছর বয়সে চট্টগ্রামের এক অনুষ্ঠান মঞ্চে নৃত্য পরিবেশন করে সবার প্রশংসা অর্জন করেন। এই প্রশংসা পৌঁছে যায় প্রখ্যাত পরিচালক সুভাষ দত্তের কাছে। তিনি যোগাযোগ করেন। মিষ্টি মুখ, কন্ঠস্বর, সাবলীল কথা সব কিছুই উপযুক্ত মনে হওয়ার তিনি মীনা পাল ওরফে কবরীকে তার ছবির জন্য নির্বাচন করেন। প্রখ্যাত কাহিনী, চিত্রনাট্য ও সংলাপ রচয়িতা, সাংবাদিক এবং সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক, মীনা পাল নামটি পরিবর্তন করে তার নাম রাখেন কবরী।
১৯৬৪ সালে সুভাষ দত্ত পরিচালিত “সুতরাং” ছবির মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে কবরীর। দেশে বিপুল ব্যাবসায়িক সাফল্যের পাশাপাশি তাসখন্দ চলচ্চিত্র উৎসবে ছবিটি এবং কবরীর অভিনয় প্রশংসিত হয়। ১৯৬৫ সালে ফ্রাংকফুর্ট চলচ্চিত্র উৎসবে দ্বিতীয় শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসেবে পুরস্কৃত হয় “সুতরাং”। বলা বাহুল্য এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি চলচ্চিত্রের এই কিংবদন্তিকে।
অভিনয় ছাড়া, তিনি ছবি পরিচালনাও করেছেন। আগে রাজনীতিতে সক্রিয় না হলেও ১৯৭১ সালে, আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি হয়ে ওঠেন সক্রিয় এবং রাজনীতি সচেতন। ১৯৭০ দশকের মাঝামাঝি থেকেই তাকে রাজনীতিতে সক্রিয় দেখা যায়। “বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট” এর প্রথম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তিনি। এ বছর (২০২১) ১৭ এপ্রিল মৃত্যুর আগে পর্যন্ত কবরী ছিলেন এই জোটের একাংশের সভাপতি। এর আগে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়নে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
সারাহ বেগম কবরী দুইবার জাতীয় পুরস্কার অর্জন ছাড়াও পেয়েছেন আজীবন সম্মাননা। প্রথমবার সহ ছয়বার পেয়েছেন বাচসাস পুরস্কার। উত্তরণের জহীর রায়হান পুরস্কার, সিকোয়েন্স পুরস্কার, মেরিল- প্রথম আলো আজীবন সম্মাননা সহ অনেক অনেক দেশি-বিদেশি পুরস্কার, পদক ও সম্মাননা প্রাপ্ত এই কিংবদন্তি ১৯৫০ সালের ১৯ জুলাই জন্মগ্রহণ করেন। তার মহা প্রয়ানের পর এবারই প্রথম জন্মদিন পালিত হচ্ছে সারাহ বেগম কবরীর। শ্রদ্ধা এবং শুভেচ্ছা বাংলাদেশের এই অবিসংবাদিত শিল্পীর স্মৃতির প্রতি।
Leave a Reply